হাওজা নিউজ এজেন্সি: ভয় মানুষের মধ্যে আত্মসংযম, সতর্কতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার মানসিকতা তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি এমন গুণাবলি গড়ে তোলে, যা মানুষকে কল্যাণকর ও প্রিয় বিষয়ের দিকে এগিয়ে নেয়।
কিন্তু ভয় যদি সবসময় কঠোরতা, হুমকি ও আতঙ্কের মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং শিশুটি যদি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অনুভব না করে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। তখন শিশুর মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা, প্রতারণা, মিথ্যাচার ও অবিশ্বাসের মতো আচরণ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে শিশু শাসনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে— ভয় প্রদর্শনের পাশাপাশি শিশুকে তার ভুল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, কাজটির কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং তার প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখাতে হবে। শুধু শাস্তি নয়; বরং সংশোধন ও সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে, যদি ভয় দেখানো বা শাস্তি কার্যকর না হয়, তাহলে অন্য কোনো শিক্ষামূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। কারণ শাস্তি বা প্রহার কখনোই রাগ প্রশমনের মাধ্যম হতে পারে না; বরং তা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত, যুক্তিসঙ্গত ও শিক্ষামূলক, যাতে শিশুর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাসনের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যাতে শিশুর মধ্যে ভুলের গুরুত্ব উপলব্ধি তৈরি হয়। একই সঙ্গে সেখানে এমন একজনের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন, যিনি শান্তভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন এবং শিশুকে সংশোধনের পথে উৎসাহিত করবেন।
সূত্র: তারবিয়াতে কুদেক (শিশু প্রতিপালন), পৃষ্ঠা ৬০-৬১
আপনার কমেন্ট